পা বারবার ফাটছে? শরীরে এই ভিটামিনগুলোর ঘাটতিই হতে পারে মূল কারণ
পা বারবার ফাটছে? শরীরে এই ভিটামিনগুলোর ঘাটতিই হতে পারে মূল কারন
শীত এলেই অনেকের জন্য সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক সমস্যাগুলোর একটি হয়ে দাঁড়ায় পা ফাটা। বিশেষ করে গোড়ালি শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়, ত্বকে চিড় ধরে এবং হাঁটাচলায় ব্যথাও অনুভূত হয়। সাধারণভাবে শুষ্ক আবহাওয়া বা কম পানি পানকেই এর প্রধান কারণ বলা হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধু আবহাওয়া নয়-শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতি থাকলেও পা ফাটার সমস্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এমনকি তখন শীতের বাইরে গরমকালেও এই সমস্যা লেগেই থাকে।শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত নিজের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। এর সঙ্গে শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি যোগ হলে ত্বকের কোষ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ত্বক সহজেই ফেটে যায় এবং শরীরের যে অংশে চাপ বেশি পড়ে, অর্থাৎ গোড়ালি, সেখানেই ক্ষতি সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়।
:
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ই-এর অভাব পা ফাটার অন্যতম বড় কারণ। এই ভিটামিন ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। শরীরে ভিটামিন ই কমে গেলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় এবং উপরের স্তর শক্ত হয়ে ফাটতে শুরু করে। হাঁটার সময় গোড়ালিতে চাপ বেশি পড়ায় সেখানে আগে ফাটল দেখা দেভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিন ত্বকের কোষ সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ভিটামিনের ঘাটতিতে ত্বক অতিরিক্ত শুকিয়ে যায়, খোসা ওঠে এবং ফাটার প্রবণতা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে গোড়ালিতে গভীর ফাটলও তৈরি হতে পারে। ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। কোলাজেনই ত্বককে নমনীয় ও মজবুত রাখে। শরীরে ভিটামিন সি কমে গেলে ত্বক পাতলা ও শুষ্ক হয়ে পড়ে, ফলে সামান্য ঠান্ডা বা শুষ্ক বাতাসেই গোড়ালি ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।এ ছাড়া ভিটামিন এ ত্বকের নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এই ভিটামিনের ঘাটতিতে ত্বক দ্রুত রুক্ষ হয়ে ওঠে এবং পা ফাটার সমস্যা আরও তীব্র হশরীরে ভিটামিনের অভাব রয়েছে কি না, তা ত্বকই অনেক সময় ইঙ্গিত দেয়। ত্বক অস্বাভাবিকভাবে শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুলকানি, খুব দ্রুত গোড়ালি ফেটে যাওয়া কিংবা নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেও ত্বক নরম না হওয়া-এসব লক্ষণ ভিটামিনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে। ভিটামিন ই পেতে বাদাম, সূর্যমুখী বীজ ও অ্যাভোকাডো উপকারী। ভিটামিন সি-এর জন্য কমলালেবু, লেবু, পেয়ারা ও ব্রকলি ভালো উৎস। ভিটামিন বি-৩ পাওয়া যায় ডিম, মাছ, মুরগির মাংস ও ডালে। আর ভিটামিন এ-এর জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন গাজর, পালং শাক ও কুমড়ো।
পাশাপাশি ঘরোয়া যত্নও জরুরি। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে মোজা পরলে ত্বক নরম থাকে। গরম পানিতে পা ভিজিয়ে নিয়মিত মৃত ত্বক পরিষ্কার করা এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করাও পা ফাটা কমাতে সাহায্য করে।শীতে গোড়ালি ফাটা সাধারণ সমস্যা হলেও, শরীরে ভিটামিন ই, বি-৩, সি ও এ-এর ঘাটতি থাকলে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়।
তাই শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, ভেতর থেকে পুষ্টির জোগান নিশ্চিত করলেই ত্বক থাকবে নরম আর গোড়ালি হবে ফাটলমুক্তায়।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment