আতঙ্কে সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে মানুষ



 অস্ত্র ঠেকিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়-সংলগ্ন এলাকায় গ্রামের একটি চায়ের দোকান থেকে গত ৩০ নভেম্বর পাঁচ কিশোরকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র ডাকাতরা। এ ঘটনার পর আতঙ্কে সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে মানুষ।




অপহৃতদের একজনের বাবা অছিউর রহমান বলেন, গত রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মুদি দোকানে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল আমার ১৭ বছরের ছেলে মামুন। এমন সময় আকস্মিকভাবে দোকানটি ঘিরে ফেলে অস্ত্রধারী একদল ডাকাত। দোকানটা থেকে কাছেই পাহাড়ি জঙ্গল। মাগরিবের আজানের পরপরই ওই জঙ্গল থেকে আট থেকে দশজন লোক বের হয়ে এসে দোকান ঘিরে ফেলে। তাদের সবার হাতে অস্ত্র, মুখ ছিল কাপড় দিয়ে বাঁধা। দোকানে ঢুকেই টাকা-পয়সা ও মালামাল লুট করে অস্ত্রধারীরা। এরপর যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাঁচ কিশোরের সবাইকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে জঙ্গলে ফিরে যায় ডাকাত দলটি।




তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে মামুনকেও ওরা ধরে নিয়ে গেছে। ছেলের চিন্তায় আমার স্ত্রী নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। দিন-রাত শুধু কান্না করতেছে। অপহরণের শিকার অন্য কিশোরের পরিবারেও একই অবস্থা।




এদিকে, পাঁচ কিশোরদের মধ্যে একজন পরবর্তীতে অপহরণকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুইদিন পার হওয়ার পরও বাকি চারজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।




অপহরণের শিকার আবু বক্কর ছিদ্দিকের বাবা মোহাম্মদ হাসান বলেন, দুইদিন ধরে আমরা মোবাইলের দিকে তাকায় আছি। কত লাখ চায় কে জানে! দিন মজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। এর মধ্যে এত টাকা দিবো কীভাবে?




অন্যদিকে, এই ধরনের অপহণের ঘটনা মোটেও নতুন নয় বলে জানান এলাকাটির বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজুল হাসান খোকন বলেন, গত ছয় মাসে এখানে কমপক্ষে ৩০ জনের মতো শিশু-কিশোর অপহরণের শিকার হয়েছে এবং প্রতিবারই মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনতে হয়েছে।




বাহারছড়ার আরেক বাসিন্দা রিয়াজুল হাসান খোকন জানান, গত একবছরে টেকনাফে কম করে হলেও ২০০ মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছে। আর ডাকাতি তো নিত্যদিনের ঘটনা। বর্তমানে টেকনাফের বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।




তিনি আরও বলেন, অপহরণের ঘটনায় এটা এখন এক আতঙ্কের জনপদ, সন্ধ্যার পর মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।




স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শক্ত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই দিন দিন ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা বাড়ছে বলে। এখানে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নাই।




কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, একপাশে সমুদ্র ও অন্যপাশে পাহাড় থাকার সুযোগ নিয়ে ডাকাতদের একাধিক দল এখানে সক্রিয় থাকায় ঘটনাগুলো ঘটছে। 




তিনি আরও বলেন, ডাকাতি ও অপহরণের মামলায় অতীতে যেসব তদন্ত হয়েছে, সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা শরণার্থী জড়িত থাকার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। ডাকাত দলগুলোর বিরুদ্ধে সেনা-পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।




জায়েদ নূর বলেন, যেগুলোকে অপহরণ বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো সব আসলে সেই ধরনের অপহরণ নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাদক ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে। মাদকের টাকার ভাগাভাগি, দেনা-পাওনা—এমন নানান কারণে বেশিরভাগ ঘটনা ঘটছে। তবে এরমধ্যেও কিছু জেন্যুইন কেস আসছে।




তিনি বলেন, সম্প্রতি অপহরণ হওয়া কিশোরদের উদ্ধার করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা




.

Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

3 জিবি ইন্টারনেট ফ্রী সকল সিমের জন জেনে নিন

যে গো’পন বিষয়গুলি মেয়েরা কখনোই ছেলেদের কাছে বলে না, ৪ নাম্বারটা জা’নলে অ’বাক হবেন!

কোন ভি’টামিনে ছেলেদের লি’ ঙ্গ মোটা তাজা ও বড় হয়, জেনে নিন