৮ ঘন্টায় আরো তিন ভূমিকম্প বাড়ছে আতঙ্ক
৮ ঘন্টায় আরো তিন ভূমিকম্প বাড়ছে আতঙ্ক
শুক্রবারের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের রেশ না কাটতেই গতকাল শনিবার ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিনটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায়। এ নিয়ে গত ৩১ ঘণ্টায় চারবার ভূমিকম্পে জনমনে আরও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘন ঘন ভূকম্পনের এ ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা এটিকে ভালো লক্ষণ নয় বলে সতর্ক করেছেন। যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে চরম সতর্কতা এবং প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।শুক্রবার ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর গতকাল প্রথম কম্পনটি হয় সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ১২ সেকেন্ডে, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৩। উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ২৯ কিমি উত্তর-পূর্বে নরসিংদীর পলাশে। সন্ধ্যায় ঢাকার বাড্ডায় দুবার ভূমিকম্প হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, সন্ধ্যায় রাজধানীতে পরপর দুটি ভূমিকম্প হয়েছে। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর ১ সেকেন্ড পর সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাড্ডায়। আর ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা। শুক্রবারের ভূমিকম্প সারা দেশেই অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের সময় অনেকেই আতঙ্কে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। ভূমিকম্পের ঘটনায় শিশুসহ ১০ জন নিহত ও ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি—পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে নরসিংদীতে। ঢাকায় চার ও নারায়ণগঞ্জে একজন মারা যান। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে অনেকেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন। এ ছাড়া কিছু ভবন হেলে পড়ে এবং ফাটল দেখা দেয়।এদিকে ধারাবাহিক কম্পনের ফলে গাজীপুর-টঙ্গী শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে নরসিংদী, বগুড়া এবং চট্টগ্রামে পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। টঙ্গী ও গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার ফলে দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, নরসিংদীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেড় শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ভবন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা দুদিনে তিনটি ভূমিকম্পকে সাধারণভাবে দেখার সুযোগ নেই এবং ঢাকার নিম্নাঞ্চলসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জন্য এটি এক বড় সতর্কবার্তা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, এর আগে এ অঞ্চলে ৪ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, বড় ভূমিকম্পগুলো ১৫০ বছর পরপর ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। এদিক থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পগুলো ফেরত আসার সময় হয়ে গেছে। তাই শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর সবাইকে সচেতন ও সাবধান হতে হবে। বিশেষ করে শনিবার আরও তিন দফা ভূমিকম্প হওয়া লক্ষণ ভালো নয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল-পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ জানান, ঢাকার নিম্নাঞ্চলগুলোতে ঝুঁকির মাত্রা আরও বেশি। তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকের পর থেকে যেসব নিম্নভূমিতে বালু ফেলে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা করা হয়েছে, যেমন হাজারীবাগ, শ্যামলী, ঢাকা উদ্যান, বছিলা, পূর্বাচল ও উত্তরা। এসব অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এখানকার ভবনগুলো ঢাকার উঁচু এলাকার ভবনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। গত দুদিনে চারটি ভূমিকম্পনকে সাধারণভাবে দেখার সুযোগ নেই। যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, প্রশাসন সর্বোপরি সাধারণ মানুষকে সাবধান ও অতিক সতর্ক থাকতে হবে। মোট কথা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
00:01

Comments
Post a Comment