দেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা
দেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
দেশি-বিদেশি ভূতত্ত্ববিদ ও নির্মাণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন—গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার গভীরে থাকা শক্তিশালী ‘মেগাথ্রাস্ট’ ফল্টে বহুদিনের চাপ জমে আছে, যা মুক্ত হলে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে। এই শঙ্কা তারা জানান রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত ‘আর্থকোয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ সেমিনারে। আয়োজনটি করেছে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের প্রান্তে অবস্থান করায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-টেকনাফের আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে দেশটি একটি ভূকম্পন-সংবেদনশীল জোনে রয়েছে। তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং সংকীর্ণ সড়ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সেমিনারে জানানো হয়—গত শতকে দেশে ২০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, আর ২০২৪ সালের পর থেকে কম্পন অনুভূত হওয়ার হার বেড়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে প্রায় ৮০০ থেকে ১,০০০ বছর ধরে জমে থাকা শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি, যা বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।
জাপানের ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো ও হেসাইয়ে সুগিয়ামা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, টেকসই নকশা, আধুনিক নির্মাণমান, নিয়মিত ড্রিল ও প্রস্তুতি কোনো বড় দুর্যোগের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
বক্তারা সবাই একমত হন—সরকারি, বেসরকারি ও সাধারণ নাগরিক—এই তিন স্তরের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া ভূমিকম্প-সহনশীল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। ভবনের স্ট্রাকচারাল অডিট, বিল্ডিং কোডের কঠোর প্রয়োগ, জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো এবং কার্যকর সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঢাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি কম্পন আমাদের সামনে বাস্তব ঝুঁকির কথা আবার মনে করিয়ে দিয়েছে। অযথা দেরি না করে এখনই সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।
.jpeg)
Comments
Post a Comment